আসছে মোবাইল ফোন নিবন্ধন পদ্ধতি

Please log in or register to like posts.
Post

বাংলাদেশে ব্যবহৃত প্রতিটি মোবাইল ফোন নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি)।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতিবছর প্রায় ৩০ শতাংশ মোবাইল হ্যান্ডসেট কর ফাঁকি দিয়ে প্রবেশ করছে বাংলাদেশে। এতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। তাই সকল অবৈধ বা চুরি করা ফোন শনাক্ত করতে সরকারের এ পরিকল্পনা।

বিটিআরসি স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ জানান, এতে অবৈধভাবে আমদানি, চুরি ও নকল হ্যান্ডসেট প্রতিরোধ করা যাবে, গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে, মোবাইল ফোনের হিসাব রাখা যাবে। সবশেষে সরকারি রাজস্বের ক্ষতি ঠেকানো সম্ভব হবে।

এক্ষেত্রে যেভাবে পুরো পদ্ধতিটি কার্যকর হবে তা একনজরে দেখে নেওয়া যাক:

প্রথমত বাংলাদেশে বৈধভাবে আমদানি ও অ্যাসেম্বল করা ফোনগুলোর ১৫ ডিজিটের আইএমইআই নম্বর নিয়ে একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। মানুষ যখন নতুন ফোন কিনতে যাবে তখন আইএমইআই চেক করে জেনে নিতে পারবে ফোনটি বৈধ কিনা।

এরপর বিটিআরসি তাদের ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (ইআইআর) খসড়া নির্দেশনা তৈরি করবে। এর মাধ্যমে দেশে বর্তমানে সক্রিয় সব ফোনগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় নেওয়া হবে। গ্রাহকদের হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের জন্য কোথাও যেতে হবেনা। তারা নিজেদের নিবন্ধিত সিমটি ফোনে সক্রিয় করলেই ফোনটি ওই নামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধন হয়ে যাবে। ওই ফোনে যদি দ্বিতীয় সিম ব্যবহার করতে হয় তাহলে সেটাও অবশ্যই একই নামে নিবন্ধিত সিম হতে হবে। এছাড়া কারও যদি একাধিক ফোন থাকে তাহলে তিনি দ্বিতীয় ফোনটিতে যে নামের সিমটি সক্রিয় করবেন, সেই নামেই ফোনটি নিবন্ধিত হয়ে যাবে। তখন ওই ফোনে অন্য নামের কোন সিম চলবেনা। অর্থাৎ একটি ফোন একজনের নামেই নিবন্ধিত হবে।

এরপর এই ডাটাবেজকে ব্ল্যাক, হোয়াইট ও গ্রে- এই তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হবে। ‘হোয়াইট’ বলতে বোঝানো হয়েছে বৈধভাবে আমদানি করা এবং দেশে বৈধভাবে তৈরি ফোনগুলো। ক্লোন, অনুমোদনহীন, অবৈধভাবে আমদানি ফোনগুলো ‘গ্রে’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত। এ অবৈধ ফোনগুলো এবারের মত, অর্থাৎ প্রথম ও শেষবারের মত অনুমোদন দেবে বিটিআরসি। অন্যদিকে চুরি যাওয়া ফোন, মেয়াদ উত্তীর্ণ আইএমইআই যুক্ত ফোন, নকল আইএমইআই সম্পন্ন ফোনগুলোকে ‘ব্ল্যাক’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এরপর তৈরি করা হবে একটি কমন সার্ভার। যেখানে প্রত্যেকটি অপারেটরের ডাটাবেজগুলো সিঙ্ক্রোনাইজ হবে। এর নাম হবে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর)। এতে ইআইআর এ নতুন কোন ডেটা সংযুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটা এনইআইআরে চলে আসবে।

কেউ যদি তার নিবন্ধিত ফোন অন্য কাউকে দিতে চান বা বিক্রি করতে চান তাহলে ফোনটিকে পুনঃনিবন্ধন করতে হবে। সেক্ষেত্রে নিজের নাম অনিবন্ধিত করে যার কাছে ফোন দেবেন তার নামে ফোনটি নিবন্ধিত করতে হবে। এ সম্পর্কে বিস্তারিত পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে। তাছাড়া এ পদ্ধতিতে ফোন চুরি হয়ে গেলে সহজেই ফোন লক করে দেওয়া যাবে, যাতে অন্যকেউ ফোনটি ব্যবহার করতে না পারে।

তবে এরও কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। যেমন কর্পোরেট সিম ও ফোনগুলো নিবন্ধিত হবে প্রতিষ্ঠানের নামে। তাছাড়াও বিটিআরসি বিশেষ তালিকাভুক্ত মানুষদের এ নিবন্ধন থেকে বিরত রাখতে পারবে।

পুরো পদ্ধতি চূড়ান্ত হওয়ার পর গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে বিটিআরসি।

মোবাইল নিবন্ধন পরিকল্পনা নিয়ে আপনার মতামত জানান কমেন্ট বক্সে। ধন্যবাদ।

Reactions

0
0
0
2
0
0
Already reacted for this post.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *